নয় মাসের মধ্যে প্রথমবার বাড়ির মূল্যে পতন যুক্তরাজ্যে

গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যে বাড়ির দাম কমেছে দশমিক ২ শতাংশ, যা ২০২৪ সালের মার্চের পর মাসিক ভিত্তিতে এ খাতে প্রথম হ্রাস।

গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যে বাড়ির দাম কমেছে দশমিক ২ শতাংশ, যা ২০২৪ সালের মার্চের পর মাসিক ভিত্তিতে এ খাতে প্রথম হ্রাস। এ তথ্য দিয়েছে ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বন্ধকি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান হ্যালিফ্যাক্স। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যে বাড়ির গড় মূল্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। তবে নভেম্বরের ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধির তুলনায় কম।

২০২৪ সালের শেষার্ধে যুক্তরাজ্যে বাড়ির দাম বাড়ার কারণ ছিল বন্ধকি সুদহারের পতন ও বেতন বৃদ্ধি। এছাড়া মূল্যস্ফীতি কমে যাওয়ায় আর্থিক চাপ কমায় স্বস্তিতে ছিলেন ভোক্তারা।

হ্যালিফ্যাক্সের মর্টগেজ বিভাগের প্রধান আমান্ডা ব্রাইডেন বলেন, ‘দেশজুড়ে অনেক এলাকায় চাহিদার তুলনায় বাড়ির সরবরাহ ছিল কম। এ কারণে দাম বাড়তে থাকে। এটি সম্ভবত আরো তীব্র হয়েছিল বাড়ির মালিকদের আরেকটি সিদ্ধান্তের কারণে। বন্ধকির রেট আরো কমার প্রত্যাশায় অনেকে সম্পত্তি বিক্রির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে থাকতে পারেন।’

এছাড়া মার্চ থেকে ইংল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে স্ট্যাম্প ডিউটি চার্জের সীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। এ সীমা ২০২২ সাল থেকে এখনো কিছুটা কম। বিষয়টি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সামনে অনুপ্রেরণা হিসেবে ছিল।

এসব কারণেই গ্রাহকরা বন্ধকের প্রতি বেশি আগ্রহী দেখান এবং গৃহঋণের চাহিদা মহামারীর আগের স্তরে ফিরে আসে, যা দুই বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে হ্যালিফ্যাক্স সতর্ক করেছে ভবিষ্যতে বাড়ির মূল্যবৃদ্ধি বিভিন্ন কারণে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

আমান্ডা ব্রাইডেন বলেন, ‘২০২৫ সালে গৃহবাজার কোথায় দাঁড়াবে? সাম্প্রতিক মাসগুলোয় আবাসনবাজারকে সমর্থন দিয়েছে বন্ধকি ঋণের সুদহারে পতন, আয় বৃদ্ধি ও স্ট্যাম্প ডিউটির নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা। তবে মর্টগেজের সামর্থ্য অনেকের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে, বিশেষত ব্যাংকের সুদহার পূর্বাভাসের তুলনায় ধীর গতিতে কমলে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কর্মসংস্থানের অবস্থা যদি সাম্প্রতিক স্থিতিশীল অবস্থা থেকে গুরুতরভাবে খারাপ না হয়, তাহলে ক্রেতা চাহিদা মোটামুটি ভালো থাকবে। এসব বিবেচনা করে আমরা চলতি বছরে বাড়ির মূল্যবৃদ্ধিতে মৃদৃ গতি প্রত্যাশা করছি।’

কয়েক বছর ধরে ধীর প্রবৃদ্ধি যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে টেনে ধরেছে। লেবার পার্টি গত গ্রীষ্মে নির্বাচনে জিতে দেশ পরিচালনার ভার নেয়। মূল অগ্রাধিকার হিসেবে তারা অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলে আসছে। কিন্তু সরকারি ঋণ, আবাসন সংকট, মূল্যস্ফীতি ও সাম্প্রতিক ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক বাধাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতি দেখে আসছেন যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীনরা। লেবার সরকারের পরিকল্পনায় আবাসন খাত বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে আসছে। তারা ১৫ লাখ নতুন আবাসন সরবরাহের কথা বললেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য অনেক সমালোচকের।

আরও